Skip to main content

নারকেল জাজিরায় দুদিন

হিমছড়ির বসতি


হিমছড়ির ৩শ ফুট উপর থেকে দূরে কক্সবাজার সৈকত


ডলফিন রিসোর্ট!


হিমছড়ির ৩শ ফুট উপর


হিমছড়ি ছড়া


ইনানি সৈকত



হিমছড়ির পাহাড়ের খাড়া ঢালে বকরির ছানা



দূরে নারকেল জাজিরা
হিমছড়ি


শাহপরি ঘাটে জাহাজ



ইনানীতে মজা করা



মিয়ানমার কোস্টগার্ড চৌকি


কেয়ারি সিন্দবাদ, নারকেল জাজিরার উদ্দেশে ছেড়ে যাবার আগে


প্রবাল দ্বীপে যাচ্ছি সবাই, জাহাজে ওঠার পালা



জাজিরার অতিথিপরায়ন সাদেকা বিবি, ছয় কন্যা সাত পুত্র জননী আমাদের পেট পুরে ডাবের পানি ও পান-সুপারি দিয়ে আপ্যায়ন করেন


নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমার




জাজিরার হোটেল অবকাশের ঝাউবাগানে



প্রবালদ্বীপের সৈকতে



জাজিরা সৈকতে গোসল


জাজিরার পাহারাদারেরা


নারকেল জাজিরা (সেন্টমার্টিন) অভিমুখে চলেছি আমরা




টেকনাফের শাহপরি দ্বীপ ঘাটে মাছধরা ভ্যাসেল


আমাদের পিছু পিছু আসছে কুতুবদিয়া ও কাজল



জাজিরার পাহারাদারেরা



নারকেল জাজিরা (সেন্টমার্টিন)






জাজিরা সৈকতে রিনি








অনেকদিন থেকে ইচ্ছে ছিল নারকেল জাজিরা দেখতে যাব। শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত এ ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে গেলাম। রাত ১০টার গাড়িতে রওনা দিলাম কক্সবাজার। ঢাকার ফকিরাপুলে অনেকগুলা বাস কাউন্টার আছে, দেখে শুনে যে কোন একটায় উঠলেই হয়, ভাড়া ৪৫০/= টাকা। ভ্রমণের সময় জ্বর-বমি-পেটের অসুখ ইত্যাদির জন্য কিছু ওষুধ রাখা ভাল। গাড়িতে খাবার জন্য নাস্তা-পানিও নিতে পারেন, পথে চৌদ্দগ্রামে বাস যে রেস্তরাঁয় বিরতি দেয়, সেখানে খাবারের দাম আকাশচুম্বি। তবে কফিটা বেশ ভাল। কক্সবাজার পৌছতে প্রায় ৯-১০টা বেজে যায়। অনেক হোটেল, সৈকত ঘেসে একটা হোটেলে উঠা যায়। দাম-দস্তুর করে নিলে ৫শ থেকে ৩শ টাকার মধ্যে দুই বেডের রুম পাওয়া যায়। আমি হোটেল ডায়মন্ড উঠলাম, পাঁচতলায় সমুদ্রমুখী ভিআইপি রুম, ভাড়া গুনতে হল ৬শ টাকা, ২টা রুম, ৪-৫ জনের পরিবারের জন্য আরামদায়ক। একটু ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে হিমছড়ি আর ইনানী সৈকত দেখতে যাওয়া যায়। সেটা বেশ দূরের পথ। তবে কাছের লাবনি পয়েন্টে গিয়ে দুপুরের গোসল সেরে নেয়া যায়। বিকেল ৩টার দিকে সিএনজি ভাড়া করে হিমছড়ি এবং ইনানি দেখতে গেলাম। সিএনজি ভাড়া ৩শ থেকে ৫শ টাকা। যাওয়ার পথে প্রথমে হিমছড়ি এবং পরে ইনানি গেলে সুবিধা হয়। সিএনজিওলার সাথে অতিরিক্ত ২ ঘন্টা সময় চুক্তি করলে ঝামেলামুক্ত থাকা যায়। আমি সাড়ে পাঁচশ টাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত হিমছড়ি ও ইনানি ঘুরে আসলাম। রাতে সমুদ্র সৈকত বা বার্মিজ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়। ভোরে নারকেল জাজিরা (সেন্ট মার্টিন দ্বীপ) গেলাম। আগে থেকে বুকিং দিলে ভাল হয়। আমি দ্বীপে একরাত থাকার চুক্তিতে বুকিং দিয়েছিলাম। একদিনের জন্য-১০৫০/= এবং একরাত দ্বীপে অবস্থান করে পরদিন ৩টার জাহাজে ফিরে আসলে ১৩৫০/=। তবে এই রেট কম-বেশি হতে পারে। তিনটি জাহাজ আছে, এক- কেয়ারি সিন্দবাদ, দুই-কুতুবদিয়া এবং তিন-কাজল। ক্রম অনুসারে জাহাজগুলোর গতির পার্থক্য রয়েছে। একসাথে সবগুলো ছাড়ার পর দ্বীপে সবার আগে পৌছায় সিন্দবাদ, সময় লাগে প্রায় ২ঘন্টা। এরপর কুতুবদিয়া প্রায় ৩ ঘন্টা এবং কাজলের প্রায় ৫ ঘন্টা। প্রায়ই কুতুবদিয়া ও কাজল যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে, এজন্য সিন্দবাদে অতিরিক্ত যাত্রী নিতে হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জাজিরা ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। তবে মধ্য মার্চ হচ্ছে সবচেয়ে ভাল সময়। দ্বীপের হোটেল অবকাশে আমি উঠলাম। পশ্চিম পাশের এই হোটেলের পাশেই হুমায়ুন আহমেদের সমুদ্র বিলাস। খুবই মনোরম পরিবেশ। দুপুরে সমুদ্রে গোসল, বিকেলে সৈকতে বেড়ানো, সূর্যাস্ত দেখা, সন্ধ্যার পর সৈকতে চিংড়ি-কাকড়া-চান্দা মাছ ভাজি খাওয়ার মজাই আলাদা, আরো খেতে পারেন চিংড়ির পিয়াজু। রাতে হোটেলে খাবার গ্রহণের পর আবার সৈকতে বেড়ানো, তখন মনে একধরণের আধ্যাত্মিক ভাব আসে। রাতে ছয়টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হোটেলে জেনারেটর বাতি থাকে। তবে প্রতি রুমে একটা করে হ্যারিকেন এবং মশার কয়েল দেয়া হয়। খাবার পানি সামান্য লবনাক্ত। রাতের খাবারের পর ঝাউবাগানের খাটিয়ায় শুয়ে ঢেউয়ের গর্জন শুনতে শুনতে ঘুম এসে যায়। শরীর জুড়ানো বাতাসে মনে হয়, আহা! এত শান্তি কোথায় ছিল এতদিন।
ফজরের আজানের সুরে ঘুম ভেঙ্গে আধো আলোয় মোহনীয় পবিত্র ভাব জেগে ওঠে মনে। খুব ভোরে পশ্চিম সৈকতের দক্ষিণ দিকে লাল কাকড়ার মিছিল দেখা যায়। কাছে গেলে দ্রুত গর্তে ঢুকে যায়। সুর্যোদয় দেখতে দেখতে প্রকৃতির জেগে ওঠা অনুভব করা যায়। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এই নারকেল জাজিরায় কতদিন আগে মানুষ বসতি গেড়েছে তা সঠিক ভাবে জানা নেই। তবে দুপুরের তপ্ত রোদে নারকেল বিথির ছায়ায় ডাবের পানি সত্যিই অসাধারণ অনুভব আনে হৃদয়ে।
পুরো দ্বীপ ঘুরে আমার মনে হচ্ছিল এখানে থেকে যাই বাকিটা জীবন। দ্বীপের দক্ষিণ দিকে অল্প দূরে ছেড়াদ্বীপ। ভাটার সময় হেটে হয়ত যাওয়া সম্ভব। তবে ঘাট থেকে ট্রলারে বা স্পীডবোটে যাওয়া যায়।
কক্সবাজার ফিরে সময় থাকলে দুলাহাজরা সাফারি পার্ক, বৌদ্ধবিহার ঘুরে দেখা যায়।

Comments

Popular posts from this blog

আরবি ক্যালিগ্রাফির নান্দনিকতা

-মোহাম্মদ আবদুর রহীম বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফির বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে পরিপূর্ণ ক্যালিগ্রাফি সেন্টারের প্রথম একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। বিশেষকরে আরবি ক্যালিগ্রাফির নান্দনিক দিক নিয়ে অধ্যয়ন এবং ক্যালিগ্রাফির প্রদর্শনীর আয়োজন, ক্যালিগ্রাফি শিল্পী এবং তাদের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রথম একটি সামগ্রিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে। এসবের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ইসলামী শিল্পকলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। এছাড়া বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যালিগ্রাফির প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং সিলেবাসভুক্ত করা। ক্যালিগ্রাফি শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আরো সৃজনশীল হতে পারে এজন্য ব্যাপকভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করা। এতে শিশুদের সাথে বয়স্করাও ক্যালিগ্রাফির নান্দনিকতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইসলামী ক্যালিগ্রাফি আরবি লিপিকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ইসলাম পূর্ব সময়ে মক্কা নগরীতে আরবি লিপি প্রথম প্রচলন করেন বিশর ইবনে আবদুল মালিক আল কিন্দি। তিনি উত্তর আরবের হিরা এবং আনবার অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছ থেকে নাবাতিয়ান লিপি লেখার শৈল্পিক জ্ঞান অর্জন করেন। প্রাচীন তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, আরবরা ইসলামের আগে থেকেই আরবি লিপিতে লেখালেখি করত। এছাড়া সেময় ইহ...

ক্যালিগ্রাফি বনাম ক্যালিওগ্রাফী

সকালে ওয়ার্ড কমিশনারের সচিব মহোদয় ফোন দিয়ে জানতে চাইলেন গতকালের পুরন করা ফরমে শব্দটা কি ক্যালিগ্রাফি নাকি ক্যালিওগ্রাফী হবে? বললাম, কি বানান ওখানে দেয়া আছে, তিনি বললেন, ক্যালিগ্রাফি। বললাম, জ্বি, বানান ওটাই হবে। তিনি সন্দেহের সুরে জানালেন, এতদিনতো এটা ক্যালিওগ্রাফী বলে জানতাম! আমি হেসে বললাম, আমরা কত কিছু যেভাবে ধারণা করি, আসলে তা সেরকম নয়।  সেই নব্বই দশকের কথা, বাংলা সাহিত্য পরিষদে এক মাসিক সাহিত্য সভায় ক্যালিগ্রাফি বিষয়ে লেখা পাঠ করে বিপদে প ড়ে যাই। পাঁচজন আলোচক আমাকে আচ্ছা করে ধুইয়ে দিলেন, এত অল্প জেনে কেন এমন একটি কঠিন বিষয়ে লিখতে গেলাম, কারন বিষয়টির বানানই আমি ভুল করেছি, তারা বললেন, শুদ্ধ বানান হবে 'ক্যালিওগ্রাফী'। আমি তখন একেবারে আনকোরা লেখক। এত সমালোচনা সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, দাড়িয়ে বললাম, আমার লেখার সমালোচনার জবাব দিতে চাই। অনুষ্ঠানের সভাপতি তখন বোধহয় আবদুল মান্নান তালিব ছিলেন, তিনি অনুমতি দিলেন। সেই জবাবি ভাষা একটু রসকষহীন হয়েছিল, এমন কি জবাব দেয়ার মধ্যেই একজন অভিধান নিয়ে এলেন পাশের লাইব্রেরি কক্ষ থেকে, অবশেষে হলভর্তি লেখক শ্রোতা মানতে বাধ্য হলেন, শব্দট...

বাংলা ভূখন্ডে ক্যালিগ্রাফির পদযাত্রায় শিলালিপির ভূমিকা

Muhaqqaq style -মোহাম্মদ আবদুর রহীম ক্যালিগ্রাফিকে শুধুমাত্র 'হাতের লেখা' বলে পরিচয় দিলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় এর অর্থ। 'সুন্দর হাতের লেখা' বললে আক্ষরিক অর্থ বলা হয়। আরব সিভিলাইজেশন প্রবন্ধে বলা হয়েছে- আরবি লিপিকলা প্রবহমান নকশা এবং জটিল জ্যামিতিক ডিজাইনের সমন্বয়। এই নান্দনিক লিপিকলা সম্পর্কে আলেকজান্দ্রিয়ার দার্শনিক ও গণিতের জনক ইউক্লিদ বলেন, "একটি 'আধ্যাত্মিক কৌশল' হিসেবে ক্যালিগ্রাফিকে গত ১৩শত বছর ধরে আরবদের কলম শুধু বিশুদ্ধ এবং সমৃদ্ধ করেছে।" আসলে ক্যালিগ্রাফি হচ্ছে লিপিকলা বা লিপি দিয়ে যে শিল্পকর্ম করা হয়। Muhaqqaq style বাংলা ভূখন্ডে প্রাচীন কাল থেকে যারা শাসন করেছেন, তারা সুবিধামত একটি ভাষাকে রাজভাষা করেছেন এবং নথিপত্রে তা ব্যবহার করেছেন, জনসাধারণের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে এভাষায় জনহীতকর কাজের পরিচিতি ফলক বানিয়েছেন। প্রাচীনকাল থেকে এ অঞ্চলে পাথরে, তাম্র ফলকে এর নিদর্শন দেখা যায়। কাগজ বা টেকসইবিহীন মাধ্যমে এই নিদর্শন পাওয়া দুষ্কর। একটা মজার বিষয় হচ্ছে, ক্যালিগ্রাফির সত্যিকার পদযাত্রা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রাচীন নিদর্শ...