Skip to main content

Posts

ক্যালিগ্রাফি বনাম ক্যালিওগ্রাফী

সকালে ওয়ার্ড কমিশনারের সচিব মহোদয় ফোন দিয়ে জানতে চাইলেন গতকালের পুরন করা ফরমে শব্দটা কি ক্যালিগ্রাফি নাকি ক্যালিওগ্রাফী হবে? বললাম, কি বানান ওখানে দেয়া আছে, তিনি বললেন, ক্যালিগ্রাফি। বললাম, জ্বি, বানান ওটাই হবে। তিনি সন্দেহের সুরে জানালেন, এতদিনতো এটা ক্যালিওগ্রাফী বলে জানতাম! আমি হেসে বললাম, আমরা কত কিছু যেভাবে ধারণা করি, আসলে তা সেরকম নয়।  সেই নব্বই দশকের কথা, বাংলা সাহিত্য পরিষদে এক মাসিক সাহিত্য সভায় ক্যালিগ্রাফি বিষয়ে লেখা পাঠ করে বিপদে প ড়ে যাই। পাঁচজন আলোচক আমাকে আচ্ছা করে ধুইয়ে দিলেন, এত অল্প জেনে কেন এমন একটি কঠিন বিষয়ে লিখতে গেলাম, কারন বিষয়টির বানানই আমি ভুল করেছি, তারা বললেন, শুদ্ধ বানান হবে 'ক্যালিওগ্রাফী'। আমি তখন একেবারে আনকোরা লেখক। এত সমালোচনা সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, দাড়িয়ে বললাম, আমার লেখার সমালোচনার জবাব দিতে চাই। অনুষ্ঠানের সভাপতি তখন বোধহয় আবদুল মান্নান তালিব ছিলেন, তিনি অনুমতি দিলেন। সেই জবাবি ভাষা একটু রসকষহীন হয়েছিল, এমন কি জবাব দেয়ার মধ্যেই একজন অভিধান নিয়ে এলেন পাশের লাইব্রেরি কক্ষ থেকে, অবশেষে হলভর্তি লেখক শ্রোতা মানতে বাধ্য হলেন, শব্দট...

জুমাবারের ক্যালিগ্রাফি ক্লাসের উন্মুক্ত আলোচনা : ১ম পর্ব

প্রায় প্রতি সপ্তায় ক্লাস শেষে ইরাদা হয়, আলোচনাটা লিখে ফেলি, তাতে ক্যালিগ্রাফি সংশ্লিষ্টদের কিছু ফায়দা হতে পারে। আজ তাই আলোচনার সদর মোকামগুলো তুলে ধরার কোশেশ করব, ইনশা আল্লাহ। ক্যালিগ্রাফি যেকোন ভাষার হরফে হতে পারে। আমরা বাংলাভাষী, বাংলাভাষার নিজস্ব হরফ আছে, বাংলা লিপি এর নাম। আঞ্চলিক অনেক ভাষা এলিপিতে লেখা হয়। এসব ভাষার মধ্যে কিছু জীবন্ত আর আছে মৃত ভাষা। মৃত এমন একটি ভাষার নাম হচ্ছে সংস্কৃত। এভাষায় পৃথিবীর কেউ এখন কথা বলে না। ক িন্তু বাংলালিপিতে এভাষায় প্রচুর সংখ্যক কিতাব বই লেখা হয়েছে। বাংলালিপির জন্ম যেখানেই হোক না কেন, এর উৎকর্ষ, দলাই-মালাই, লালন-পালন, আদর-কদর হয়েছে মুসলমানদের হাতে। এজন্য একটা সময় পর্যন্ত এটা ব্রাহ্মন্যবাদিদের কাছে ঘৃনার ও অচ্ছ্যুত অপবিত্র বলে গন্য হত। এর প্রকাশ তারা করেছিল, ক-অক্ষর গোমাংশ বলে। গোমাংশ স্পর্শ যেমন তাদের কাছে জাত চলে যাবার মত বিষয়, গোহত্যা যেমন মহাপাপ, ক অক্ষর অর্থাত বাংলালিপিও তেমনি মুসলমান স্পর্শে জাত হারিয়ে অপবিত্র অচ্ছ্যুত হয়ে গেছে। তাই প্রাচীন সংস্কৃত ভাষার কেতাবাদি বাংলা হরফে লেখা হলেও তা একসময় নাগরি লিপিতে লেখা হতে থাকে। যদিও নাগরি লিপিও স...

ক্যালিগ্রাফির সাথে পথচলা-1

ক্যালিগ্রাফির জন্য ট্রেডিশনাল কালি তৈরি : আপনি মধ্যপ্রাচ্যের অথবা আরব দেশগুলোতে নজর দিলে দেখবেন, একধরণের কালি ব্যবহার করা হয়, যেটা পরিবেশ বান্ধব, প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এবং ক্যালিগ্রাফির জন্য বিশেষ উপযোগী। পশ্চিমা ক্যালিগ্রাফিতে রাসায়নিক উপাদানে তৈরি কালির ব্যাপক ব্যবহার হয়। প্রাচ্য ও পশ্চিমা কালির মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে, এক. পশ্চিমা কালির থেকে আরবি কালির স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা বেশি। এবং দুই. পশ্চিমা কালি কাগজে ব্যবহারের পর সেটা সংশোধন ও মুছে ফেলা যায় না এবং দীর্ঘ মেয়াদে কাগজের টেম্পার বা ধারণ ক্ষমতা বা গঠন প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে আরবি কালির ব্যবহার সহজ ও সংশোধনযোগ্য। এছাড়া কলম দিয়ে লেখার সময় কলমের মুভমেন্ট বা গতিপ্রকৃতি ফুটে ওঠে এবং বিশেষ সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করে। আমরা বাজারে এক্রিলিক অথবা ওয়াটার কালার বা পোস্টার কালার বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রঙিন কালি সহজে তৈরি করতে পারি। এটা আধা রাসায়নিক বলা যেতে পারে। ছাত্রদের জন্য এসব রঙ সহজলভ্য ও হাত পাকানোর জন্য ভাল। এছাড়া মশক বা অনুশীলন করার জন্য চাইনিজ বা ইন্ডিয়ান কালি ব্যবহার করা ভাল। আরবি কালি তৈরিতে ভুষা কালি, আরবি ...

আমার ফেলে আসা দিনগুলো-১

MOHAMMAD ABDUR RAHIM · SATURDAY, 13 FEBRUARY 2016 166 reads মাদ্রাসায় তখন এইটের বৃত্তির টাকা হাতে পেয়েছি। কিছু টাকা টিউশনি করেও হাতে জমেছে। এমনই শীতের শেষ সময়। পড়াশুনার কোন চাপ নেই। ইয়ার-দোস্তদের সাথে সারাদিন আড্ডা মেরে বেড়াই। খুলনার সবচেয়ে বড় মহল্লা টুটপাড়া। এই মহল্লার সর্বপশ্চিমে দোলখোলা বাজার। হাটাপথে আমার বাসা থেকে প্রায় ঘন্টাখানেকের পথ। বড় চাচার সাথে সেই বাজারে শৈশবে প্রায়ই যাওয়া হত। সেখানে ভাল চইঝাল আর মানকচু পাওয়া যেত। বাজারের একপ্রান্ত শহরের ভেতর মিশেছে, অন্যপ্রান্ত পূর্ব-পশ্চিম মূখী একটি গলিতে এসে দাড়িয়েছে। এই মোড়ের পাশে একটি পুরনো দোতলা পাকা ইমারত। আমার দোস্ত ও ক্লাসমেট জাকির এই বাড়ির ছেলে। তার আব্বা সোনার দোকানদার। জাকিরের তাই হাতখরচ নিয়ে চিন্তা নেই। এই যে তসবিরখানা আপনারা দেখছেন। এটার একটা শানে নযুল আছে। জাকির আর আমার একসাথে ফটো তোলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু একটা বিশেষ কারণে এই ফটো তোলা হয়েছিল। আপনারা হয়ত ধারণা করতে পারছেন না ... ঠিক কি ছিল সেই কারণ? এটা একটা ভাব দেখানো কিংবা ফুটানি দেখানো ছবি। ছবির ক্যাপশন হওয়া উচিত- এই যে আমরা কি সুন্দর ঘ...

এক গণহত্যার রাত শেষে..

6 May 2013 at 17:42 গভীর রাতে মুহুর্মুহু গুলী, বোমা বিস্ফোরণ আর আর্তচিৎকারে ধরমড়িয়ে জেগে উঠলাম। বাচ্চারা আতঙ্কিত, বাচ্চার মা ভীত-সন্ত্রস্ত গলায় বলল, দেশে কি যুদ্ধ লেগে গেছে! আমি কি করব বুঝতে পারছি না। এক বন্ধুকে ফোন দিলাম। আন রিচেবল রিপ্লাই পেলাম। আরেক জনকে রিং করলাম এক-দুই-তিন চতুর্থবারে সে ধরল। বললাম এত রাতে তারা কিছু শুনতে পাচ্ছে কিনা? সে অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে বলল, দেশে কি যুদ্ধ লেগে গেল! টিভি দেখে বলল, ঢাকা নগরীতে সরকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। হেফাজতে ইসলামীকে তাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে এভাবে গুলী ও বোমা-গ্রেনেড চার্জ করছে নিরাপত্তা বাহিনী।  ক্রমশ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি গুলী এসে ঘরে পড়ে। চারদিকে খই ফোটার মত গুলীর শব্দ। সাথে মুহুর্মূহু গ্রেনেড ফাটছে। আর আর্তচিৎকারের সাথে মাইকের গগনবিদারী শব্দে আমরা চরম আতঙ্কিত। বাচ্চারা পরস্পর জড়াজড়ি করে বসে আছে আর ক্ষণে ক্ষণে বোমার শব্দে কেপে উঠছে।  ধীরে ধীরে চারদিক শান্ত হয়ে এল। মাঝে মাঝে গুলীর শব্দ শোনা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে ফিরে এসেছি। জানালা দিয়ে শব্দের উৎসে...

আমার ফেলে আসা দিনগুলো- ২

পর্ব দুই ৮০ দশকের শেষ দিকের ঘটনা। শিশু একাডেমিতে মহাসমারোহে ছবি আকা আর সংস্কৃতিচর্চায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করি। স্যার ইকবাল রোডের ইসলামিক ফাউন্ডেশনেও কেরাত-হামদ-নাত ইত্যাদি অনুষ্ঠান বাদ যায় না। শিশু একাডেমি ছিল পাইওনিয়ার গার্লস স্কুলের পাশে পুরাতন একটা ভবনে। পরে সেটা সোনাডাঙায় নিজস্ব ভবনে চলে যায়। খুলনা গল্লামারিতে তখন চারুকলা মাত্র শুরু হয়েছে। সেই চারুকলার অধ্যক্ষ আবুল কাশেম স্যার ছিলেন আমাদের আর্টের শিক্ষক। অবশ্য এর আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরিয়ান জামান স্যার আমাদের ছবি আকা শেখাতেন। জামান স্যার অ্যামেচার আর্টিস্ট ছিলেন। তাই আমাদের ছবিতে একটা ফোক ভাব থাকত। পারস্পেকটিভ, প্রোপোরশন ইত্যাদি ঠিক হত না। কাশেম স্যার এসে সেগুলো ঠিক করে দিলেন। ব্যস, আমাদের উন্নতি হল দেখার মত । যেখানে প্রতিযোগিতা, সেখানে বিজয় আর পুরস্কার লাভ করা ডাল-ভাত হয়ে গেল। একবার বরিশালে আন্ত:বিভাগ প্রতিযোগিতায় পেন্সিলস্কেচে বিভাগীয় পর্যায় কোয়ালিফাই করলাম। তখন অবশ্য জামান স্যার ছিলেন। ফলে প্রতিযোগিতায় দেয়া বিষয় আকতে গিয়ে বিপদে পড়লাম। জামান স্যার আমাদের ছোট কাগজে ছবি আকা শেখাতেন, সেটা এ-৪ সাইজ ছিল।...

আমার শৈশবের শবে-বরাত

খুলনা শহরের শান্ত নিরিবিলি এলাকা টুটপাড়ায় আমার শৈশবের দিনগুলো হেসে-খেলে গুজরান করেছি। তখনকার মনে দাগকাটা স্মৃতিগুলো সময়ে-অসময়ে মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। আমাদের পাড়ায় যে বিশালায়তনের কবরখানাটি আছে। সেটা খুলনা শহরের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বিচিত্র রূপে বাধানো সেখানকার কবরগুলো। নতুন আর পুরাতন অংশ দক্ষিণ-উত্তরে বিভক্ত। বিচিত্র রঙ আর ধরণের ফুলে ভরা পুরা কবরগাহ। প্রতি শবে-বরাত আর শবে-কদরের রাতে হাজার হাজার মানুষ সেখানে জিয়ারতের জন্য আসে। বিশেষকরে শবে-বরাত আসলেই সারা শহর ে যেন একটা পবিত্র আবেশ ছড়িয়ে পড়ত। দলে দলে লোকেরা পান্জাবি-টুপি পরে মসজিদে ভরে যেত। আসরের পর মিলাদ-দোয়ার অনুষ্ঠান হত। ঘরে ঘরে রুটি-হালুয়া তৈরি হত। গ্রাম থেকে কেউ আসলে বলত- রুটির দিন। সেইদিন আচানকভাবে ভিক্ষুকে ভরে যেত শহর। মনে হত আসমান থেকে সব আজব চেহারা আর পোশাক, ঝোলা-পাত্র, লাল সুতায় মোড়ানো লাঠি নিয়ে ভিক্ষুকেরা নেমে এসেছে। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে আকর্ষণীয় সুরে এবং বিভিন্ন ভাষায় রুটি-হালুয়ার আবেদন করছে, মা-চাচিরা সেইদিন দিল উজাড় করে খাবার দান করতেন। আর তশতরিতে নকশাদার কাপড়ে ঢেকে নানান পদের হালুয়া-ফিরনি আর চালের আটার পাতলা রুটি প্রতিবেশ...

আমার না না রঙের দিনগুলি

------------------------------------------ এই ক’দিন আগেও অনায়াসে সবকিছু মনে করতে পারতাম। রাতে কখনও রঙ মাখানো দিনগুলো চোখে আবির লাগিয়ে যেত। কিভাবে যেন শিমুল তুলোর মতো আলো-আধারির মায়ামাখা সময় বাতাসে ডানা মেলে পালিয়ে যাচ্ছে। কারো কথা মনে হলে কি এক ভাল লাগা জড়িয়ে ধরত। এখন মনে হচ্ছে অনুভূতিটাতে জং ধরছে ...মরচে পড়ে ঝুরঝুর করে সে সব ভেজা ভেজা লোনা অনুভূতি গুড়ো হয়ে ঝরে যাচ্ছে... গতরাতে ঠিক করলাম যা মনে আসে লিখে রাখি..এটা নিজের সাথে কথা বলা...চোখ মুদে যাবার আগে একটু ভাল লাগা... এক. আমাদের টিনের চালে বৃষ্টির দাপাদাপি আর জুমুর বাজন শুনে বর্ষার দুপুরটার কথা মনে পড়ে আর বিরস সন্ধ্যা আঙিনার কোণের লেবু তলায় যখন ঘনিয়ে আসে তখন কেমন যেন অচেনা চারিদিক। এভাবে বর্ষা যায় কখন যে শীত আসে জানা হয় না... এমন এক শীতের সন্ধ্যায় কে আমাকে কোলে নিয়ে বাড়ির পুব কোণে একটা খাটিয়ার কাছে গেল তারপর সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটা লাশ দেখিয়ে বলল...বাবু..ঐ যে তোর মা...

বাংলা ভূখন্ডে ক্যালিগ্রাফির পদযাত্রায় শিলালিপির ভূমিকা

Muhaqqaq style -মোহাম্মদ আবদুর রহীম ক্যালিগ্রাফিকে শুধুমাত্র 'হাতের লেখা' বলে পরিচয় দিলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় এর অর্থ। 'সুন্দর হাতের লেখা' বললে আক্ষরিক অর্থ বলা হয়। আরব সিভিলাইজেশন প্রবন্ধে বলা হয়েছে- আরবি লিপিকলা প্রবহমান নকশা এবং জটিল জ্যামিতিক ডিজাইনের সমন্বয়। এই নান্দনিক লিপিকলা সম্পর্কে আলেকজান্দ্রিয়ার দার্শনিক ও গণিতের জনক ইউক্লিদ বলেন, "একটি 'আধ্যাত্মিক কৌশল' হিসেবে ক্যালিগ্রাফিকে গত ১৩শত বছর ধরে আরবদের কলম শুধু বিশুদ্ধ এবং সমৃদ্ধ করেছে।" আসলে ক্যালিগ্রাফি হচ্ছে লিপিকলা বা লিপি দিয়ে যে শিল্পকর্ম করা হয়। Muhaqqaq style বাংলা ভূখন্ডে প্রাচীন কাল থেকে যারা শাসন করেছেন, তারা সুবিধামত একটি ভাষাকে রাজভাষা করেছেন এবং নথিপত্রে তা ব্যবহার করেছেন, জনসাধারণের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে এভাষায় জনহীতকর কাজের পরিচিতি ফলক বানিয়েছেন। প্রাচীনকাল থেকে এ অঞ্চলে পাথরে, তাম্র ফলকে এর নিদর্শন দেখা যায়। কাগজ বা টেকসইবিহীন মাধ্যমে এই নিদর্শন পাওয়া দুষ্কর। একটা মজার বিষয় হচ্ছে, ক্যালিগ্রাফির সত্যিকার পদযাত্রা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রাচীন নিদর্শ...

মহানবীর (স.) সময়কার লেখা কুরআনের সন্ধান ও প্রসঙ্গ কথা

  নমুনা-১ মোহাম্মদ আবদুর রহীম  সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মহানবীর (স.) সময়কার লেখা কুরআনের সন্ধান বিষয়ক খবর ও ছবি ছাপা হয়েছে। বইপত্র ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সহজলভ্য ও যাচাইয়ের সুযোগ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সঠিক তথ্য বের করার সুযোগ হয়েছে। প্রকাশিত খবরটি সঠিক কিন্তু ছবিটি সঠিক নয়। দৈনিক সংগ্রাম ও আরটিএনএন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিটি তুরস্কভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ড বুলেটিনের বরাত দিয়ে ছেপেছে। স্ক্রিনশট-১  ঐ সাইটটিতেও একই ছবি আছে।(স্ক্রিনশট-১) অন্যদিকে সময়ের কন্ঠস্বরসহ কয়েকটি সাইটে প্রকাশিত নিউজের সূত্র ওয়ার্ল্ড বুলেটিন দিলেও ভিন্ন ছবি ছেপেছে।(স্ক্রিনশট-২) স্ক্রিনশট-২  প্রকাশিত এই দুটি ছবি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এগুলো কুরআনের পাতা ও লিপির ভেতর জের-জবর-পেশ নোকতা ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ মহানবীর (স.) সময়ে কুরআনের লিপিতে এগুলো ছিলনা। উমাইয়া খলিফা মারওয়ানের সময়ে মক্কার প্রশাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সাকাফি(৬৬১-৭১৪ ইসায়ি) অনারব ও আরবি ভাষায় অনভ...

বাংলাদেশ সাত্তার জামে মসজিদ

রাজধানী ঢাকার অদূরে শ্রীপুরের মাওনায় আন্তর্জাতিক মানের বিশাল আয়তনের একটি মসজিদ নির্মান করা হচ্ছে। বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার এ মসজিদটির নির্মাণ ব্যয়ভার বহন করছেন। মসজিদটিতে পর্যায়ক্রমে আরবি ক্যালিগ্রাফি এবং ইসলামী নকশা দিয়ে সুশোভিত করা হবে। চমৎকার দৃষ্টিনন্দন শিল্প সুষমা মন্ডিত এ স্থাপনায় তিনশতেরও বেশি ন্থানে ক্যালিগ্রাফি ও অলঙ্করনের কাজ হবে। এজন্য তুরস্কের বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার ও কুরআন-মুফাসসির মোজাফ্ফর আহমদ সম্ভাব্য ক্যালিগ্রাফি(সুলুস লিপি) এবং পার্শ্ব অলঙ্করণ কাগজে ও সফট কপি করে পাঠান। একাজে তার পক্ষ থেকে সহায়তা করেন ঢাকাস্থ তুর্কি স্কুলের শিক্ষক আবদুল কারিম। ক্যালিগ্রাফি ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজে প্রয়োজনীয় ক্যালিগ্রাফি ও নকশা সম্পাদনা, তদারকি, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন করে অঙ্কনের কাজ ও স্থাপনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্যালিগ্রাফার মোহাম্মদ আবদুর রহীম। পবিত্র স্থাপনাটির মূল নকশা ও নির্মাণ করেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আর্কিটেক্ট কে এম মাহফুজুল হক জগলুল এবং তার প্রতিষ্ঠান ইন্টার্ডেক সিস্টেম।  মূল স্থাপনার বাহিরে এ্যাক...

বাংলা ক্যালিগ্রাফি দিয়ে খসড়া টাইটেল পেজ Bangla Calligraphy title page

এটিএন বাংলা চ্যানেলের 'আন্তর্জাতিক ক্বিরাত প্রতিযোগিতা-২০১২' অনুষ্ঠানের জন্য এই খসড়া টাইটেল পেজটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্যালিগ্রাফার মোহাম্মদ আবদুর রহীম। Bangla Calligraphy title page 'antorzatik kirat protijogita 2012' means-'International Quran recitation contest 2012' made by Bangladeshi famous calligrapher Mohammad Abdur Rahim.

এটিএন বাংলা চ্যানেলের 'আন্তর্জাতিক ক্বিরাত প্রতিযোগিতা-২০১২' অনুষ্ঠানের লোগো ক্যালিগ্রাফি

এটিএন বাংলা চ্যানেলের 'আন্তর্জাতিক ক্বিরাত প্রতিযোগিতা-২০১২' অনুষ্ঠানের জন্য এই লোগো ক্যালিগ্রাফিটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্যালিগ্রাফার মোহাম্মদ আবদুর রহীম। This logo calligraphy made for ATN Bangla tv chanel, Bangladesh program 'International Quran Recitation Contest-2012'. The logo made by famous calligrapher of Bangladesh, Mohammad Abdur Rahim.

দুটো নতুন ক্যালিগ্রাফি

Monogram of Bangladesh Calligraphy Foundation এক বন্ধুর স্ত্রী-সন্তান বাসায় এসেছিল বেড়াতে । ক্যালিগ্রাফি দেখে তারা খুব খুশি । তাদের আগ্রহ মেটাতে দুটো নতুন ক্যালিগ্রাফি করলাম । অবশ্য ডিজিটাল একটা আগেই করেছিলাম । এক. সাব্বি হিসমা-আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন। ক্যানভাসে এক্রিলিক রঙ। দুই. আল্লাহ, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ। হ্যান্ডমেড পেপারে একরামিন রঙ। ডিজিটাল ক্যালিগ্রাফি